Translation of Documents for Living in France- কাগজপত্র কাকে দিয়ে অনুবাদ করাবেন ?:Syed Abul Hasan

অফ্প্রা (OFPRA) তে আশ্রয় আবেদন বা কেস, রিএক্সামাঁ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন এবং আবেদনের প্রমাণ স্বরুপ মামলার কাগজপত্র (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী, এজাহার, অভিযোগ পত্র, রায়, গ্রেফতারী পরোয়ানা, সাজা পরোয়ানা, আদেশনামা ইত্যাদি) সহ অন্যান্য যেকোন কাগজপত্র জমা দিতে হলে কোর্ট এর শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক (Traducteur Assermenté) দিয়ে অনুবাদ করানোর কোনরকম বাধ্যবাধকতা বা আইন নেই, তবে পেশাদার অনুবাদক দ্বারা অনুবাদ করাতে হবে, যা অবশ্যই বোধগম্য হতে হবে। গুগল্ এর অনুবাদ বোধগম্য হয় না। ট্রাইবুনালে আপীল করার জন্যও শপথ গ্রহণকারী অনুবাদকের নিকট যাওয়ার দরকার নেই।

শুধুমাত্র মামলার কাগজপত্র (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী, এজাহার, অভিযোগ পত্র, রায়, গ্রেফতারী পরোয়ানা, সাজা পরোয়ানা, আদেশনামা ইত্যাদি) এবং এবং ইউনিয়ন/সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা কর্তৃক প্রদানকৃত জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ সনদসমুহ Cour Nationale du Droit d’Asile (CNDA) অথবা উদ্বাস্ত্ত অধিকার সংক্রান্ত জাতীয় আদালতে জমা দিতে হবে আপীল কোর্ট এর শপথ গ্রহণকারী অনুবাদকের (Traducteur Assermenté) দ্বারা অনুবাদ সহ। অন্যান্য সমস্ত কাগজপত্র যেমন সি.এন.ডি.এ (CNDA) তে আপীল, উকিলের চিঠি, বিভিন্ন এ্যাটেষ্টেশন, সনদপত্র, সার্টিফিকেট, হাসপাতাল/ডাক্তার প্রদত্ত মৃত্যু সনদ/মেডিক্যাল সার্টিফিকেট/ছাড়পত্র, পত্রিকা, প্রবন্দ, প্রতিবেদন পেশাদার অনুবাদক দ্বারা অনুবাদ করাতে হবে, যা বোধগম্য হতে হবে এবং এগুলি আপীল কোর্ট এর শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক (Traducteur Assermenté) দ্বারা অনুবাদ করানোর কোন প্রয়োজন নেই।

কিনতু শপথ গ্রহণকারী দোভাষী (Interprète Assermenté) দিয়ে অনুবাদ করালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সি.এন.ডি.এ (CNDA) তে যারা দোভাষীর কাজ করেন তারা কোন প্রকার লিখিত কাগজ অনুবাদ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে গত ০২ সেপ্টম্বর ২০১৩ তারিখে CNDA একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যা নিচের লিংকে দেখতে পাবেন।

http://www.cnda.fr/…/32…/version/1/file/cnda_decret_info.pdf উক্ত বিজ্ঞপ্তির উল্লখযোগ্য অংশ নিম্নরুপঃ – “Les actes d’état civil, les actes judiciaires et de police versés au dossier par les parties doivent désormais être traduits par un traducteur assermenté. Il ne s’agit pas d’un traducteur intervenant devant la CNDA, mais d’un traducteur figurant sur une liste dressée par le Procureur de la République. Les pièces produites ne répondant pas à ces exigences ne seront pas examinées par les formations de jugement. Cette disposition ne s’applique qu’aux recours enregistrés à compter du 19 août 2013. On rappelle qu’au cours de l’audience, les interprètes désignés par la Cour qui sont chargés de traduire les principaux éléments du rapport et les échanges entre le requérant et la formation de jugement ne peuvent traduire aucun document écrit”. বঙ্গানুবাদঃ – « পক্ষগন কর্তৃক নথীতে জমাকৃত সিভিল ষ্ট্যাটাস (ইউনিয়ন/সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা কর্তৃক প্রদানকৃত জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ) সংক্রান্ত সনদসমুহ এবং মামলা ও পুলিশের দলিলাদী এখন হইতে একজন শপথ গ্রহণকারি অনুবাদকের দ্বারা অনুবাদ করাতে হবে। তিনি CNDA তে কর্মরত কোন দোভাষী নন, তিনি হলেন পাবলিক প্রসিকিউটর দ্বারা প্রণীত তালিকার অন্তর্ভুক্ত একজন অনুবাদক। যে সমস্ত ডকুমেন্টস্ এ শর্ত পুরণ করে না, সেগুলি জুরী বোর্ড পরীক্ষা করবে না। ১৯শে আগস্ট ২০১৩ তারিখ হইতে যে সমস্ত আপীল নিবন্ধিত হয়েছে, এই নিয়ম শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আমরা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, আদালতের দ্বারা নিয়োগকৃত দোভাষীগণ, যারা শুনানিকালে প্রতিবেদন এর প্রধান প্রধান উপাদানসমুহ এবং আবেদনকারী ও জুরীবোর্ড এর মধ্যে কথোপকথন অনুবাদের দায়িত্বে নিয়োজিত, তারা কোন লিখিত কাগজ অনুবাদ করতে পারবেন না »।

২০১৬ সালে গোটা ফ্রান্সে মোট ৬ (ছয়) জন আপীল কোর্ট এর শপথ গ্রহণকারী বাংলা অনুবাদক (Traducteur Assermenté) এবং অপর ৫ (পাঁচ) জন শপথ গ্রহণকারী বাংলা দোভাষী (Interprète Assermenté) রয়েছেন, অনুবাদকগণ একই সাথে অনুবাদক এবং দোভাষী, কিন্তু দোভাষীগণ শুধুই দোভাষী। এই তালিকা প্রতি বছরই পরিবর্তন হয়। এরা সকলেই ব্যক্তি, এরা কোন কোম্পানী অথবা দোকান নহে। মামলার কাগজপত্রে এবং অনুবাদের উপর অবশ্যই উক্ত ব্যক্তি-শপথ গ্রহণকারী অনুবাদকের স্বাক্ষর, সীল এবং একটি অনুবাদ নাম্বার থাকতে হবে, উক্ত ব্যক্তি-শপথ গ্রহণকারী অনুবাদকের দোকানের বা অফিস এর অন্য কোন অনুবাদক এর সীল গ্রহণযোগ্য হবে না।

বর্তমানে প্রায় সকল বাংলাদেশীরা অনুবাদ করতে গিয়ে প্যারিসের এরকম একজন শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক দ্বারা প্রতিদিনই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, যিনি নিজের সীল না দিয়ে অন্যের সীল দিচ্ছেন কর বা ট্যাক্স ফাকি দেয়ার জন্য। সি.এন.ডি.এ (CNDA) শুধুমাত্র শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক‌কেই চেনে, তার দোকানের অন্য কোন অনুবাদক‌কে অথবা উক্ত অন্য অনুবাদকের সীলকে চেনে না। তাই আপনার অনুবাদিত কাগজপত্রে সঠিক শপথ গ্রহণকারী অনুবাদকের স্বাক্ষর, সীল এবং অনুবাদ নং আছে কিনা এবং এই একই অনুবাদ নং আপনার মুল অথবা অরিজিনাল ডকুমেন্টস এ আছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে নিন।

আপনার ডকুমেন্ট যদি সম্পূর্ণ ইংরেজীতে হয়, যেমনঃ জন্ম সনদপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট, তাহলে শপথ গ্রহণকারী ইংরেজী অনুবাদক দ্বারাও অনুবাদ করাতে পারেন।

২০১৬ সালের শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক (Traducteur Assermenté) দের নাম/ঠিকানা নিন্মে দেয়া হলো।

২০১৬ সালে গোটা ফ্রান্সে মোট ৬ (ছয়) জন আপীল কোর্ট এর শপথ গ্রহণকারী বাংলা অনুবাদক (Traducteur Assermenté) এর পুর্নাঙ্গ তালিকা। এই তালিকা প্রতি বছরই পরিবর্তন হয়।

শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক (Traducteur Assermenté) এর মানে এই না যে তার দোকানে কাগজ দিয়া খুশী মনে বাড়ী এসে বসে থাকলেন, অতপর অনুবাদটা হাতে পেয়ে সোজা উকিলের কাছে বা সিএনডিএ তে দিয়ে আসলেন, দেখলেন ও না আপনার কাগজ যার কাছে দিয়ে আসছেন সেই অনুবাদ করলো নাকি তার অবিবহিতা স্ত্রী অনুবাদ করে দিল। অনুবাদটা পাওয়ার পর অবশ্যই চেক করুন আপনার অনুবাদের উপর নিন্মুক্ত ৪ (চার) টি উপাদান আছে কিনাঃ

১) উপরের তালিকার ৬ (ছয়) জন আপীল কোর্ট এর শপথ গ্রহণকারী বাংলা অনুবাদক (Traducteur Assermenté) এর সীল যা অনুবাদ এবং বাংলা/ইংরেজী মুল কাগজের উপর অবশ্যই থাকতে হবে।

২) তার স্বাক্ষর এবং তারিখ যা অনুবাদ এবং বাংলা/ইংরেজী মুল কাগজের উপর অবশ্যই থাকতে হবে।

৩) অনুবাদ নং বা Ne Varietur যা অনুবাদ এবং বাংলা/ইংরেজী মুল ডকুমেন্ট এর উপর অবশ্যই থাকতে হবে এবং উভয়ের নাম্বার একই হতে হবে। মুলত এই নাম্বার এর দ্বারাই আদালত বুঝতে পারে কোন কাগজের কোন অনুবাদ।

৪) সনদপত্র বা Certificate এর মতো বড় সীল ।

আপনার অনুবাদের উপর অবশ্যই উপরোক্ত ৪ (চার) টি উপাদান থাকতে হবে। যদি অনুবাদের উপর যেকোন শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক এর শুধুমাত্র একটি সীল থাকে, বাকী উপাদানসমুহের অনুপস্হিতিতে, CNDA আপনার কাগজ পরীক্ষা করবে না (টিকা-টিপ্পনী নং ১, ২ ও ৩ দেখুন)।

এ ছাড়াও রয়েছেন ৫ (পাঁচ) জন শপথ গ্রহণকারী দোভাষী (Interprète Assermenté), যাদের কাজ সাধারণত আদালতে শুনানীর সময় মৌখিক বক্তব্য ভাষান্তর করা। CNDA এর উপরোক্ত নোট অনুসারে উনাদের কোনপ্রকার কাগজপত্র লিখিত অনুবাদ করার অধিকার নেই। অনুবাদক এবং দোভাষীর মধ্যে পার্থক্য বোঝানোর উদ্দেশ্যে, আপনারা যাতে বিভ্রান্ত না হন এবং ভুলপথে পরিচালিত না হন, সেজন্য উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিন্মে প্রকাশ করা হলা।

২০১৬ সালে গোটা ফ্রান্সে মোট ৫ (পাঁচ) জন আপীল কোর্ট এর শপথ গ্রহণকারী বাংলা দোভাষী (Interprète Assermenté) এর পুর্নাঙ্গ তালিকা। এই তালিকা প্রতি বছরই পরিবর্তন হয়। CNDA এর নোট অনুসারে উনাদের কোন প্রকার লিখিত কাগজপত্র অনুবাদ করার অধিকার নেই।
টিকা-টিপ্পনীঃ
১) জনাব অরিন্দম ভট্রাচার্য এর দোকানে কাগজ জমা দেন অসংখ্য বাংলাদেশী। কিন্তু অধিকাংশ অনুবাদের উপর অরিন্দম ভট্রাচার্য সাহেবের কোন নামগন্ধও থাকে না, যেগুলির উপর অন্যান্য অনুবাদক, দোভাষী কিংবা সংস্হার সীল থাকে, যেমনঃ Tuhin ZULKIPLA, Arun HALDER, R M S ইত্যাদি আরো অনেক প্রজাতির সীল দেখা যায়, এরা কেউই শপথ গ্রহণকারী অনুবাদক নন। উদাহরনঃ MOHAMMAD Masum Billah নামক এক ভদ্রলোক, যিনি জনাব অরিন্দম ভট্রাচার্য এর দোকানে কাগজ জমা দেন, কিন্ত তার অনুবাদের উপর সীল ছিল Tuhin ZULKIPLA নামক একজন শপথ গ্রহণকারী দোভাষীর। CNDA তার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করে যে « মামলার কাগজপত্র যেমন রায়, গ্রেফতারী পরোয়ানা ইত্যাদি (…) বিদেশীদের প্রবেশ এবং বসবাস এবং আশ্রয় অধিকার সংক্রান্ত বিধি এর আর-৭৩৩.৫ ধারা অনুযায়ী জমা না দেয়ায় এগুলি আদালত কর্তৃক বিবেচিত হতে পারে না »
২) জনাব ফিলিপ বেনোয়া (Philippe BENOIT) নিজে কাগজ জমা নেন না, একটা দোকানে কাগজ জমা দিয়ে আসতে হয়। অধিকাংশ মামলার কাগজের অনুবাদের উপর শুধুমাত্র একটি গোল সীল দেখা যায়, কিন্তু অনুবাদকের স্বাক্ষর এবং অনুবাদ নং বা Ne Varietur নেই। উদাহরনঃ (ক) সেলিম আহমেদ নামক একজন ভদ্রলোক, যিনি দাবী করেছেন যে তিনি ফিলিপ বেনোয়া সাহেবের কাছে অনুবাদ করেছেন এবং অনুবাদের উপর শুধুমাত্র একটি গোল সীল ছিল, অনুবাদকের স্বাক্ষর এবং অনুবাদ নং বা Ne Varietur ছিল না। CNDA তার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করে যে, অনুবাদ আইন মান্য করে করা হয়নি, তাই এটা পরীক্ষা করা যাবে না। (খ) AHMED Md Parvez নামক একজন ভদ্রলোক, যিনি পুনর্বিবেচনা এর সময় ফিলিপ বেনোয়া সাহেবের কাছে রায় অনুবাদ করেছেন এবং অনুবাদের উপর শুধুমাত্র একটি গোল সীল ছিল, অনুবাদকের স্বাক্ষর এবং অনুবাদ নং বা Ne Varietur ছিল না। CNDA তার রায় পরীক্ষা না করেই এবং তাকে না ডেকেই অটো-রিজেক্ট দেয়।
৩) রিফিউজী সংক্রান্ত স্বনামধন্য উকিল জনাবা তালমান পাস্কালের দেয়া তালিকা অনুসারে জনাব Razib BAISHNAB নামক এক ভদ্রলোক Monsieur BOUGNOT Olivier নামক একজন শপথ গ্রহণকারী দোভাষীর কাছ থেকে মামলার কাগজপত্র অনুবাদ করান। CNDA তার প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করে যে « জমাকৃত কাগজপত্র শর্ত পুরণ না করার কারণে জুরীবোর্ড এর দ্বারা পরীক্ষা করা হবে না।»
৪) সাবধান ২০১৬ সালের শপথ গ্রহণকারী বাংলা অনুবাদক (Traducteur Assermenté) তালিকায় Madame Deepa MUKERJI épouse CHATTERJEE এর নাম দেখা যাচ্ছে না, এবং এটা নিশ্চিত যে উনি আর শপথ গ্রহণকারী বাংলা অনুবাদক নন, তাই উনার অনুবাদ আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্দেশিকা ও পুনর্বিবেচনা (Réexamen):Syed Abul Hasan

আশ্রয় অধিকার আইন সংস্কার – ১০

ক) নির্দেশিকা:

২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ফরাসী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর ফ্রান্সে অবস্থানকারী বিদেশী সংক্রান্ত সাধারণ অধিদপ্তর « ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্দেশিকা » নামক ৫২ পৃষ্ঠার একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা বাংলা সহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উক্ত নির্দেশিকা মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পুর্ণ পাঠ করলে আপনি এমনকি যদি বাংলাদেশ থেকেও আসেন, তথাপীও আপনি সরাসরি ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করতে সক্ষম হবেন এবং এ লক্ষ্যে আপনার কোন খালু, দুলাভাই অথবা বিশেষভাবে অজ্ঞ (বিশেষজ্ঞ) ব্যক্তিবর্গের কাছে যেতে হবে না, বরং আপনি নিজেই একজন রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞে পরিণত হবেন।

উক্ত নির্দেশিকাটি ডাউনলোড করার জন্য প্রথমে নিচের লিন্কে ক্লীক করুনঃ

http://accueil-etrangers.gouv.fr/demande-d-asile/vous-souhaitez-deposer-une-demande/article/l-examen-de-votre-demande-d-asile

অতপর নিচের ডান দিকে Bengali (বাংলা) অথবা Anglais (ইংরেজী) ক্লীক করুন।

এখন মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। তারপর ফ্রান্সে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করুন।

খ) পুনর্বিবেচনা (Réexamen):

আর যে সমস্ত বাংলাদেশী ভাইবোনেরা আগে থেকেই ফ্রান্সে আছেন তারা আমার মনে হয় পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর আবেদন করার জন্যই সবচেয়ে বেশি Left-right করেন, এবং এই কারণেই এ বিষয়ে বিস্তারিত একটা আর্টিকেল লেখার ইচ্ছে ছিল অনে‌কদিন আগে থেকেই, যাই হোক এই নির্দেশিকাটি আমার কষ্ট অনেকটা লাঘব করলো। এর মধ্যেই পাবেন পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর আবেদন করার বিস্তারিত বিবরণ (নতুন আইন সহ)।

নির্দেশিকাটির ২১ এবং ২২ পাতায় “৩.৪. পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন” অধ্যায়টি অবশ্যই খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, সেই সাথে পুরু নির্দেশিকাটিই পড়ুন। বিশ্বাস করুন কোন বিশেষজ্ঞ পুনর্বিবেচনা সম্বন্দে এই বইয়ের চেয়ে একটা শব্দও বেশি জানে না ।

পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর আবেদন করার জন্য সুস্হ মস্তিস্কে এবং ঠান্ডা মাথায় প্রস্তুতি নিন, কারণ OFPRA যদি কোন পুনর্বিবেচনা এর আবেদন অগ্রহণযোগ্য হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে CNDA তে আপিল চলাকালীন সময়েও মামু (পুলিশ) ধরে আপনাকে রিটেনশন সেন্টার (কাগজ ছাড়াদের বিশেষ জেলখানা) এ নিতে পারবে এবং বাংলাদেশে প্যাকেটও (ফেরৎ পাঠানো) করে দিতে পারবে। জেনে রাখুন, বর্তমানে প্রায় সকল বাংলাদেশীদের পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর আবেদন OFPRA কতৃক অগ্রহণযোগ্য হিসেবে সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

যদি OFPRA কোন আবেদনকে দ্রুত প্রক্রিয়া (Procédure Accélérée) অথবা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে আপনি ১ (এক) মাসের ভিতর CNDA তে আপীল করতে পারবেন এবং CNDA এর একমাত্র জজ অথবা ১ (এক) জন জজ (৩ জন নয়) ৫ (পাঁচ) সপ্তাহ অথবা ৩৫ দিন এর মধ্যে আপনার আপীল এর রায় দিবে। এ ক্ষেত্রে আপনার সম্পুর্ণ পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর আবেদনের স্হায়ীত্ব হবে মাত্র ৩ (তিন) মাস কিংবা তারও কম, অর্থাৎ OFPRA এক মাসের কম [প্রিফেকচার এর কার্যাবলীর পর ৮ (আট) দিনের মধ্যে OFPRA তে পাঠাতে হবে + OFPRA ৮ (আট) দিনের ভিতর সিদ্ধান্ত দিবে] + ১ (এক) মাসের মধ্যে CNDA তে আপীল করতে হবে + পাঁচ সপ্তাহ বা ৩৫ দিনের মধ্যে CNDA রায় দিবে।

আশ্রয় আবেদনের প্রত্যায়ন পত্র নাও দিতে পারে, কেড়ে নিতে পারে, অথবা নবায়ন নাও করা হতে পারে, যখন, –

  • OFPRA কোন আবেদন ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসাবে সিদ্ধান্ত দেয় ।
  • প্রথম পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর আবেদন, যা কিনা ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে, কারণ যাতে তাকে দেশ থেকে বের করতে না পারে শুধুমাত্র এই কারণেই পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে;
  • প্রথম পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর আবেদন চুড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান হবার পর যদি দ্বিতীয়বার পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয় (তাহলে এ্যাটেষ্টেশন পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই)।

আশ্রয় আবেদন পুনর্বিবেচনা এর ক্ষেত্রে Allocation pour Demandeur d’Asile (ADA) নামক ভাতা প্রদান নাও করা হতে পারে।

তবে OFPRA এবং CNDA উভয়ই Procédure Accélérée এর কোন আবেদনের নথি Procédure Normale এ রুপা্ান্তর করতে পারবে।

পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর ‘অগ্রহণযোগ্যতা’ থেকে বাচার একমাত্র পন্হা হলো OFPRA এবং CNDA এর সর্বপ্রথম সাক্ষাৎকার এবং শুনানীর সময় ‌কিছু কিছু বিষয়ে তাদেরকে মৌখিকভাবে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হওয়া। যাদের OFPRA এবং CNDA এর সর্বপ্রথম মৌখিক সাক্ষাৎকার এবং শুনানী খুবই বাজে হয়েছে, তাদের পুনর্বিবেচনার আবেদন অগ্রহণযোগ্য হবেই।

তারপরও পুনর্বিবেচনা (Réexamen) এর ‘অগ্রহণযোগ্যতা’ থেকে বাঁচার চেষ্টা হিসেবে এর লিখিত আবেদন বা কেস এ নতুন সমস্যা সুন্দর, বিস্তারিত এবং যুক্তিসঙ্গত উপায়ে উপস্হাপন করতে হবে এবং এর বিপরীতে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য কাগজপত্র প্রীফেকচার এবং OFPRA তেই জমা দিতে হবে। কারণ প্রীফেকচারই সর্বপ্রথম সিদ্ধান্ত নেয় আপনাকে রিসিপিসি দিবে কিনা অর্থাৎ আপনাকে দ্রুত প্রক্রীয়ায় ফেলবে কিনা, তারপর OFPRA সিদ্ধান্ত নেয় আপনার আবেদন গ্রহণযোগ্য নাকি নয়। তাই এখন থেকে আর CNDA তে কাগজ জমা দেয়ার লক্ষ্যে আলসেমী করে বসে থাকবেন না, অন্তত পুনর্বিবেচনা এর ক্ষেত্রে।

মনে রাখবেন মামলার কাগজপত্র OFPRA/CNDA পাত্তা দেয় না তাই বিশ্বাসযোগ্য কাগজপত্র জমা দিতে হবে, ক্ষেত্রবিশেষে নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল।

প্রথম আবেদন প্রত্যাখান এর পর ফ্রান্স ছেড়ে গেলে, এমনকি দেশে চলে গেলেও, পুনরায় ফ্রান্সে এসে আশ্রয় আবেদন করলে তা পুনর্বিবেচনা হিসেবে গণ্য হয়।

টিকা-টিপ্পনীঃ
১)Dom’Asile, 111 avenue Charles Gide, 94270 KREMLIN BICETRE এই ঠিকানায় আশ্রয়প্রার্থীদের ডমিসিল দেয়া হচ্ছে এবং Créteil Préfecture পুনর্বিবেচনার (Réexamen) আবেদন গ্রহণ করছে। COALLIA ও এখন ঠিকানা দিচ্ছে এবং পুনর্বিবেচনা করা এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তবে সবার আবেদনই অফ্প্রা কতৃক অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
২) ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে পুনর্বিবেচনার একজনকে আবেদনকারিকে Attestation de demande d’asile – Procédure Accélérée প্রদান করা সত্ত্বেও একই দিনে OFII চিঠির মাধ্যমে তাকে জানিয়ে দেয় যে তাকে কোন প্রকার সুবিধা (ভাতা + বাসা) দেয়া হবে না, এবং এ ব্যাপারে আবেদনকারীকে ১৫ দিনের ভিতর তার মতামত জানানোর জন্য বলা হয়। আবেদনকারী চাইলে ২ মাসের ভিতর OFII তে সহানুভুতির জন্য আপীল করতে পারে এবং এই আপীল প্রত্যাখ্যান হলে ২ মাসের মধ্যে Tribunal administratif এ আপীল করা যাবে।
৩)দ্রুত প্রক্রিয়া (Procédure Accélérée) এর প্রথম আশ্রয় আবেদনের প্রত্যায়ন পত্র দেখলাম আজ ০৮/১২/২০১৫ তারিখেে, যা Créteil Préfecture থেকে প্রদান করা হয় ২য় বার পুনর্বিবেচনার একজন আবেদনকারিকে সাথে OFPRA এর প্রথম আবেদনের ফর্ম এবং ২১ দিন সময় (৮ দিন সময়ের গোলাপী ফর্ম নয়), ভদ্রলোক প্রথম থেকেই এই প্রিফেকচারে। পুনর্বিবেচনার আবেদনকারিকে রিসিপিসি এর আগেও মাঝেসাজে Créteil Préfecture থেকে দেয়া হতো। সবার ক্ষেত্রে সমান আচরণ নাও হতে পারে। তবে যারা Créteil Préfecture এ প্রথম থেকেই আছেন, তাদেরকে এই প্রিফেকচার ত্যাগ না করার পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। ১৯/০১/২০১৫ তারিখে OFPRA এক চিঠির মাধ্যমে তার সম্পুর্ণ ফাইল ফেরৎ দিয়ে নতুন করে Préfecture এ গিয়ে গোলাপী ফর্ম পুরণ করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তিতে Préfecture তাকে গোলাপী ফর্ম দেয়।
৪)০৭/০৩/২০১৬ তারিখেে Créteil Préfecture ২য় বার পুনর্বিবেচনার একজন আবেদনকারিকে Attestation de demande d’asile প্রদান করে নাই। ১১/০৩/২০১৬ তারিখেে পারিস Préfecture ২য় বার পুনর্বিবেচনার একজন আবেদনকারিকে Attestation de demande d’asile প্রদান করে নাই।
৫) ০৮/০৩/২০১৬ তারিখেে Créteil Préfecture ১ম বার পুনর্বিবেচনার একজন আবেদনকারিকে Allocation pour Demandeur d’Asile (ADA)প্রদান এর জন্য যাবতীয় কাগজপত্রের সাথে একটি টাকা তোলার ব্যাংককার্ডও ধরিয়ে দেয়, ভদ্রলোক মহাখুশী।

ফ্রান্সে বাংলাদেশী গণ-গ্রেফতার, ৪৫,০০০ ফোনকলে আড়ি পাতা হয়, ফরাসি পুলিশ বাংলাও বোঝে:Syed Abul Hasan

ফ্রান্সে বাংলাদেশী গণ-গ্রেফতার, ৪৫,০০০ ফোনকলে আড়ি পাতা হয়, ফরাসি পুলিশ বাংলাও বোঝে

ভয় পাইয়েন না, পুরান কাহিনী, তবে ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে একবার বড় ধরনের অপারেশন হচ্ছে যারা ভুয়া কাগজ বানায় তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ছোটখাট গ্রেফতার নিয়মিতই হচ্ছে।

ফ্রান্সের মামুগণ দীর্ঘসময়, ক্ষেত্রবিশেষে কয়েক বছর ধরে তদন্ত করে, টেলিফোনে আড়ি পাতে, ইন্টারনেট ট্র্যাকিং করে এমনকি ডাকবিভাগ কিংবা DHL অনুসন্ধান করে, প্রয়োজনে চিঠিপত্রের খাম খুলে দেখে ভিতরে কি আছে। অন্যের ব্যক্তিগত চিঠির খাম খোলার বাজে অভ্যাস বাংলাদেশে পরিবারের কোন অতি উৎসাহী সদস্যের মধ্যে থাকে, ফ্রান্সের অনেক চোর-বাটপার প্রজাতির বাংলাদেশী বাসার মালিকও অসৎ উদ্দেশ্যে তার ঠিকানা ব্যবহারকারীদের খাম খুলে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফরাসি কতৃপক্ষের মাঝেও এই খাচ্চইরা অভ্যাসটি দেখা যাচ্ছে বিশেষ করে ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার আক্রমণের পর থেকে। অনেক সময় মামুগণ বাঙালী কাষ্টমারকে ‘ফাঁদ’ হিসেবে ব্যবহার করে মুল আসামী ধরার জন্য। এ সকল প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

বর্তমানে অফ্প্রার সাক্ষাৎকার গ্রহনকারী কর্মকর্তাদের লিখিত নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে এই বলে যে, “আশ্রয় আবেদন (আমরা যাকে ‘কেস’ বলি) কে লিখে দিয়েছে এটা ইন্টারভিউ এর শুরুতেই জিজ্ঞেস করতে হবে এবং সাক্ষাৎকার চলাকালীন সময়ে সুযোগ পেলেই জিজ্ঞেস করে বাহির করতে হবে কে কেস লিখে দিয়েছে”। কেস যেই লিখে দিক না কেন, সাক্ষাৎকার যারটা তাকেই দিতে হবে। তাই যার কেস সে লিখাই ভাল, নিজের জীবন কাহিনী নিজে লিখলে কিছু বলা যায়, অন্য কেউ লিখে দিলে আরো ক্ষতি।

নিচের ৩টি লিংকে ২০১২ এবং ২০১৩ সালের ২টি বাংলাদেশী গণ-গ্রেফতারের খবর ফরাসি দৈনিকে প্রকাশিত হয়, ফাউ সময় পেলে এগুলি আস্তে আস্তে আপনাদের জন্য অনুবাদ করবো। ২০১৪ সালেও এক অভিযানে ৪০/৫০ জনকে একসাথে ধরা হয়, তবে তাদের ২-৪ জন ব্যতীত বাকি সবাইকেই ছেড়ে দেয়া হয়। ২০১৫ সালেও বাংলাদেশী ভুয়া জন্ম সনদপত্র প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে একটি গণ-গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন :

  1. http://www.leparisien.fr/…/une-filiere-de-faux-refugies-pol…
  2. http://www.lefigaro.fr/…/97001-20130418FILWWW00629-paris-fi…
  3. http://www.europe1.fr/…/une-filiere-de-faux-documents-deman…

একই সময়ে একাধিক স্হানে অভিযান চালিয়ে ফরাসি পুলিশ ফ্রান্সের আদালতের প্রাক্তন ২ জন অনুবাদক এবং অন্য কিছু কাগজধারী ব্যাক্তিসহ উপরোক্ত সংখ্য‌ক লো‌কজনের সাথে আরো অনেককেই গ্রেফতার করে।

১ নং লিংকের সারাংশঃ

বাংলাদেশী একটি ভুয়া রাজনৈতিক শরণার্থী চক্রের পতন

Le Parisien ল্যো প্যারিজিয়াঁ, ৭ এপ্রিল ২০১২, সকাল ৭ টা

২০শে মার্চ তারিখে ১৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে প্যারিস-১৮, লা-কর্নোভ এবং ব্লঁ-মেসনীল (সেইন-সাঁ-দ্যোনি) থেকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ মাস তদন্ত করে এবং ৪৫,০০০ ফোন কলে আড়ি পেতে এই সংগঠনের প্রধান সদস্যদেরকে সনাক্ত ‌করা হয়। Roissy বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা জাল স্ট্যাম্প এবং বিভিন্ন বাংলাদেশী প্রশাসনের সরকারী কাগজ সম্বলিত একটি পার্সেল আটকের পর হইতে তদন্তের সূত্রপাত। তদন্তকারীরা ১,৪০০ আর্থিক ষ্ট্যাম্প, ২,০০০ ভুয়া সীল এবং বাংলাদেশের ৫০টি জাল পরিচয়পত্র সহ প্রায় ৫,০০০ ডকুমেন্টস উদ্ধার করে। প্রতিটি ডকুমেন্ট ৩০ থেকে ৫০ ইউরোতে বিক্রয় করা হতো। জাল কাগজ প্রস্তুতকারকগণ একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ মৃত্যুদন্ডের একটি জাল রায়ের জন্য ৫০০ ইউরো পর্যন্ত গ্রহণ করতো। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফ্রান্সের আদালতের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাক্তন দুইজন অনুবাদকও রয়েছে।

সংবাদপত্রে যা আসেনিঃ পুলিশ কিছু কাগজধারী ব্যাক্তিসহ উপরোল্লিখিত সংখ্য‌‌‌ক লো‌কজনের সাথে আরো অনেককেই গ্রেফতার করে এবং প্রচুর পরিমাণ কাগজপত্র, ফর্ম, ষ্ট্যাম্প, সীল, কালি, কার্ড, জন্ম সনদপত্র, টাইপরাইটার, কম্পিউটার ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করে।

পরবর্তিতে যা ঘটলোঃ অনেককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হয়, কাউকে নিয়মিত হাজিরা দিতে বলা হয় এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদন্ড সহ অধিকাংশের বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা হয়। ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদী কার্ড থাকা সত্ত্বেও কাউকে দন্ডভোগের পর ফ্রান্সের জেলখানা হইতে সরাসরি বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানো হয়।

পৃথিবীর সকলকে ‘ভোদাই’ ভাবা যেমন বোকামী, অন্যদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল ফেরেস্তার মতো লোকটিকে ‘বিশ্বাস’ করাও তেমনি বোকামী।

আজকে ২০১৬ সালের প্রথম দিন, সবার কাছে একটা অনুরুধই থাকবে, যাতে গত ৪ বছরের পুনরাবৃত্তি এই বছরও না হয়, একজন বাংলাদেশীও যাতে ভুয়া কাগজ সংক্রান্ত ব্যাপারে গ্রেফতার না হয়। ২০১৬ সাল হোক ফ্রান্সে বাংলাদেশী গ্রেফতারবিহীন সাল। ২০১৬ সাল শুভ হোক ফ্রান্সে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীর জন্য।

Connect with Jobs : International Jobs

We are extending services to the job seekers by linking them with international jobs.The job seekers are advised to visit the links and comply with the guidelines given in each job announcement.

UN Jobs:

Kindly visit the following link to get the current jobs in the UN System.

https://careers.un.org/lbw/Home.aspx

FAO Jobs:

http://www.fao.org/employment/home/en/

WHO Jobs:

http://www.who.int/employment/en/

ILO Jobs:

https://erecruit.ilo.org/public/index.asp

WFP Jobs:

http://www.wfp.org/careers

 

 

 

Connect with Jobs:Communication Officer,WHO

 

The mission of WHO is the attainment by all peoples of the highest possible level of health.
Vacancy Notice No: HQ/16/FWC/TA57

Title: Communication Officer

Grade: P4

Contract type: Temporary appointment

Duration of contract:  6 months

Date: 31 March 2016

Application Deadline: 21 April 2016
(20 day(s) until closing deadline)
Currently accepting applications

Duty Station:  Geneva, Switzerland

Organization unit: HQ/FWC Family, Women’s and Children’s Health (HQ/FWC) /
HQ/NMC – Partnership for Maternal, Newborn and Child Health (HQ/NMC)

 
OBJECTIVES OF THE PROGRAMME :
The Partnership for Maternal, Newborn and Child Health (PMNCH) aligns and engages global stakeholders in support of the Every Woman Every Child movement and coordinates the unified Global Accountability Framework. Mobilising its diverse network of over 700 partners, and through its core functions (Alignment, Analysis, Accountability, and Advocacy), the Partnership aspires to contribute to all the targets set out under the Global Strategy for Women’s Children’s and Adolescents Health three objectives – Survive, Thrive and Transform. The Partnership pays particular attention to lagging, marginalised, and excluded opulations and those in humanitarian conflict and fragile settings. The strategic objectives of the partnership are shaped by its core functions, bounded by its values and guiding principles, and respond to the SDG imperative to leave no one behind. The strategic objectives have been identified
as those where collective action is most needed to drive efficiency and effectiveness. This core value directly drives each strategic objective. SO1: Prioritise engagement in countries SO2 : Drive accountability SO3 : Focus action for results SO4: Deepen Partnership .The position is required to lead the development and delivery of the Partnership’s communication strategy and to promote the objectives of the PMNCH 2016-2020 Strategic Plan by working with internal and external stakeholders. The position is needed to coordinate the delivery of Partnership events, communication products and messages to support partners working together to deliver results across the 2016-2018 Business Plan. The role is a senior management position within the Partnership.
Description of duties:
Organizational context:
Under the broad guidance of the Executive Director, the incumbent takes the communications strategy and communication activities to ensure effective positioning of the Partnership and to deliver the results articulated in the Business Plan. The Communications Officer manages a small team of staff and consultants, and works in close coordination with the wider Partnership secretariat team to take forward the development and delivery of the PMNCH communication related products. S(he) works with a wide range of internal (e.g. Department of communications) and external stakeholders (non-state actors such as civil society, NGOs) The incumbent is expected to take independent decisions in the context of their core work, referring to the supervisory line as needed for guidance.Summary of duties:
1. To develop an innovative communication strategy for the Partnership.
2. To lead the implementation of the communication strategy.
3. Provide communications strategy and support to the Partnership, manage media relations, and develop communication materials, including information notes, press releases, brochures and the annual progress reports.
4. To oversee the development and the updating/editing of the PMNCH website in collaboration with partners and technical experts.
5. Oversee and provide advice to update PMNCHs social media strategy and social media presence.
6. Oversee the editing of technical content, e.g. feature stories, web updates of a technical nature.
7. Manage the planning of non-governance events to deliver the PMNCH Strategic Plan.
8. Manage Secretariat staff and consultants working on communications.
9. Perform all other related duties as assigned.
REQUIRED QUALIFICATIONS
Education:
Essential:
An advanced university degree in communications, public health, and/or international relations.In the event that your candidature is retained for an interview, you will be required to provide, in advance, a scanned copy of the degree(s)/diploma(s)/certificate(s) required for this position. WHO only considers higher educational qualifications obtained from an institution accredited/recognized in the World Higher Education Database (WHED), a list updated by the International Association of Universities (IAU) / United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization (UNESCO). The list can be accessed through the link: http://www.whed.net/. Some professional certificates may not appear in the WHED and these will be reviewed individually.
Skills:
1. Knowledge of communication and media strategies, concepts and practices.
2. Command of the English language, excellent writing skills and ability to draft and edit complex substantive material rapidly and accurately.
3. Ability to evaluate research findings and complex evidence, and develop communications messages and audiences.
4. Demonstrated organizational, coordination and communications skills.
5. Ability to manage complex series of competing priorities; ability to prioritize.
6. Knowledge of the public health issues in the field of Sexual, Reproductive, Maternal, Newborn Child and Adolescent Health (SRMNCAH).Competencies:

1. Communicating in a credible and effective way
2. Building and promoting partnerships across the organization and beyond
3. Creating an empowering and motivating environment
4. Fostering integration and teamwork
5. Respecting and promoting individual and cultural differences

Experience:
Essential:
At least 7 years’ relevant experience in public health or similar development-related communications, and/or health policy/governance communications. Demonstrated experience working in public health areas which involve SRMNCAH or are cross-cutting with SRMNCAH. Experience of working with, and coordinating with non-state actors in the field of public health. Experience in writing strategy documents, documents for external dissemination. Experience in managing web platforms. Experience in producing hard and soft copy communications documents, and the relevant production process.
Desirable:
Demonstrated experience in social media platforms, experience of working in low income countries. Communications work experience within a UN agency setting.
Languages:
Essential:
Expert knowledge of English.Desirable:
Intermediate knowledge of French.
Additional Information:
Please visit the following websites for detailed information on working with WHO:
http://www.who.int (to learn more about WHO’s operations)
http://icsc.un.org Click on: Quick Links > Salary Scales > by date
WHO’s salaries are calculated in US dollars. They consist of a base salary and a post adjustment, which reflects the cost of living in a particular duty station and exchange rates. Other benefits include: 30 days annual leave, family allowance, home travel, education grant for dependent children, pension plan and medical insurance.
This vacancy is published in English only.
Candidates appointed to an international post with WHO are subject to mobility and may be assigned to any activity or duty station of the Organization throughout the world.
Annual salary: (Net of tax)
US$69032 at single rate
US$74130 with primary dependants
Post Adjustment: 84.9 % of the above figure(s). This percentage is to be considered as indicative since variations may occur each month either upwards or downwards due to currency exchange rate fluctuations or inflation.

This vacancy notice may be used to fill other similar positions at the same grade level.

A written test and interviews may be used as a form of screening

Online applications are strongly encouraged to enable WHO to store your profile in a permanent database. Please visit WHO’s e-Recruitment website at: www.who.int/employment. The system provides instructions for online application procedures.
All applicants are encouraged to apply online as soon as possible after the vacancy has been posted and well before the deadline stated in the vacancy announcement.

WHO is committed to workforce diversity.
Any appointment/extension of appointment is subject to WHO Staff Regulations, Staff Rules and Manual. Only candidates under serious consideration will be contacted.

Currently accepting applications

 

Link of vacancy in WHO website:https://erecruit.who.int/public/hrd-cl-vac-view.asp?o_c=1000&jobinfo_uid_c=33267&vaclng=en

Connect with Jobs: Programme Coordinator – HIMALICA,ICIMOD

http://www.icimod.org/?q=21765

Terms of Reference

Title: Programme Coordinator – HIMALICA

Programme: Adaptation to Change

Background

The International Centre for Integrated Mountain Development (ICIMOD) is a regional intergovernmental learning and knowledge sharing centre serving the eight regional member countries of the Hindu Kush Himalayan (HKH) region – Afghanistan, Bangladesh, Bhutan, China, India, Myanmar, Nepal, and Pakistan. Our aim is to influence policy and practices to meet environmental and livelihood challenges emerging in the HKH region. To do this we bring together researchers, practitioners, and policy makers from the region and around the globe to generate and share knowledge, support evidence-based decision making, and encourage regional collaboration. ICIMOD delivers impact through its six Regional Programmes ofAdaptation to Change, Transboundary Landscapes, River Basins, Cryosphere and Atmosphere, Mountain Environment Regional Information System, and Himalayan University Consortium. These regional programmes are supported by the fourThematic Areas of Livelihoods, Ecosystem Services, Water and Air, and Geospatial Solutions and underpinned by Knowledge Management and Communication. ICIMOD seeks to reduce poverty and vulnerability and improve the lives and livelihoods of mountain women and men, now and for the future.
The Rural Livelihoods and Climate Change Adaptation in the Himalayas (HIMALICA)programme is a demand-driven, need-based programme financed by the European Union (EU).  The programme is part of the larger ICIMOD regional programme Adaptation to Change which aims at supporting poor and vulnerable mountain communities in the Hindu Kush Himalaya (HKH) region in the context of socioeconomic and climate change, and the conservation of ecosystem services, through active regional cooperation.  The two main expected results are that the capacity of the national and regional stakeholders in dealing with livelihood development and protection of the environment in the HKH region is enhanced; and that poverty among mountain people is reduced through increased resilience and the unlocking of new livelihood opportunities, and through the promotion of more equitable approaches.

 

Responsibilities and tasks

Under the overall guidance of ICIMOD’s Director of Programme Operations and under the direct supervision of the Adaptation to Change Regional Programme Manager, the Programme Coordinator will lead the Rural Livelihoods and Climate Change Adaptation Programme (HIMALICA) Management Unit and initiate, support, monitor, and coordinate the overall initiative activities in close cooperation with partners in the implementation countries. The Programme Coordinator will be responsible for the following:
  • Lead the Himalica Programme Management Unit
  • Contribute, in cooperation with the internal team and partners, to the further development of the programme’s strategy
  • Lead the preparation of yearly operational plans and budgets
  • Monitor implementation of the various programme components
  • Assist in organizing the communication and general outreach of the programme
  • Organize meetings and interactions with partners and ensure transparent communication
  • Prepare all reports and documents required for annual reporting to the donor
1. Leadership and programme coordination: 
  • Develop strategies and coordinate the implementation of different programme components
  • Coordinate and lead the planning, budgeting, implementation, monitoring, and reporting of the programme and provide guidance to ensure that the results and recommendations are consistent, complementary, and in line with the expected programme objectives
  • Liaise and communicate with the promoters and partners in participating countries to ensure coherence and convergence of the programme outcomes
  • Organize meetings of the steering and implementation committees and other regional workshops and events
  • Coordinate, develop, promote, and implement the conceptual framework within ICIMOD and with partner organizations
2. Programme planning, monitoring, and reporting: 
  • Prepare the work plan and budget in line with programme objectives and expected outcomes in consultation with component focal points and other ICIMOD programmes and ensure linkages and integration
  • Identify and implement appropriate monitoring mechanisms for the smooth implementation of the programme, including follow up on the performance of the components, in coordination with ICIMOD’s Strategic Planning and Monitoring Unit
  • Control and constantly review the financial position of the programme
  • Take responsibility for initiating, managing, and coordinating various regional activities, for developing a regional synthesis, and for meeting technical and financial reporting requirements
  • Actively participate in and provide inputs to ICIMOD’s strategic planning process
3. Communication and outreach:
  • Develop and maintain a constructive dialogue with different groups of stakeholders in the region and beyond
  • Enable and support the appropriate dissemination of results and findings to policy makers at various levels and to the international communities, in close coordination with the promoters
4. Collaboration and partnership development: 
  • Develop partnerships with national, regional, and global stakeholders for strategic collaboration to contribute to programme objectives in building the resilience of mountain communities in the HKH;
  • Enable and support partner organizations in practising and facilitating regional and national collaboration, partnerships, and networking
  • Ensure that the role and participation of women are effectively integrated within the programme
5. Team and capacity building: 
  • Take leadership in team and capacity building activities of staff in the programme and in partner organization
  • Contribute to a positive, flexible, equitable, and professional working environment
6. Scaling up of Himalica interventions: 
  • Take leadership in developing a clear strategy for scaling up interventions, in close collaboration with programme component leads and Himalica partners
  • Ensure that operational plans for the upscaling strategy are developed by each component team and included in annual plans
  • Proactively engage, together with partners, with relevant stakeholders to ensure concrete outcomes for upscaling
7. Fundraising and resource mobilization: 
  • Lead resource mobilization activities to secure expansion of programme funding (e.g., write concept notes and proposals)
  • Develop and maintain constructive dialogue with donors whenever required
  • Explore co-funding opportunities involving regional partners and/or ICIMOD’s regional member countries
8. Work as a team player within ICIMOD to support other activities and promote institutional goals, and work closely with colleagues to contribute to a constructive and professional working environment and to the development of ICIMOD as a fully integrated mountain development centre
9. Perform other duties as requested

 

Minimum Qualifications

  • Post-graduate dgree, preferably PhD, in social sciences, environmental/natural sciences, and/or a related field
  • A good understanding of mountain development issues, particularly in regards to poverty, livelihood security, and vulnerability reduction
  • At least 10 years of work experience in the development sector, particularly in mountain livelihood security, of which a large part has preferably been in HKH region
  • At least 5 years of experience in a leadership or management position, preferably in a multi-cultural environment
  • Experience in managing and coordinating projects
  • A proven track record in promoting and supporting gender equity.

 

Competencies

  • The ability to prepare project proposals and progress reports for submission to ICIMOD donors; skills in programme planning, negotiation, and assessment, monitoring, and evaluation
  • Excellent communication and writing skills, with a documented record of publications in relevant subjects
  • Experience working with multi-disciplinary teams, particularly with international/regional agencies; capacity for intellectual leadership; and skills in working with colleagues and collaborators of different national, gender and cultural backgrounds

 

Duty Station

The duty station is Kathmandu; frequent travel in the region may be required.

 

Duration

Until 31 December 2017, with an initial probation period of six months and a possibility of extension subject to performance, programme activities, and ICIMOD’s future funding levels. Starting date as soon as possible.

 

Starting Date

As early as possible

 

Remuneration

Salaries and benefits of ICIMOD are highly competitive compared to other regional organizations; remuneration is commensurate with experience and qualifications.

 

Gender and Equity Policy

Qualified and eligible women candidates and those from disadvantaged backgrounds are highly encouraged to apply. ICIMOD implements a gender fair policy and is supportive of working women. It operates a Day-Care Centre at the campus and is committed to gender mainstreaming at the organisational and programmatic levels.

 

Method of application

Applicants are requested to apply online before 17 Apr 2016 through ICIMOD’s online application system.

Only shortlisted candidates will be notified.

 

Life in France-ফ্রান্সের জীবন::Syed Abul Hasan

১) নতুন কাগজধারীদের প্রাথমিক সমস্যাবলী
২) টিকেট এবং পরিচয় পত্র নিয়ে পরিবহন ব্যবহার করুন
৩) বৃদ্ধ জ্বরাগ্রস্হ বেকার এর চাকুরী খুজার অভিনব কৌশল
৪) অসুখ-বিসুখ আল্লাহর দান, কিন্তু মানুষেরও হাত আছে
৫) বাতাক্লঁ

১) নতুন কাগজধারীদের প্রাথমিক সমস্যাবলী

যারা নতুন কাগজ পেয়েছেন, বিশেষ করে রিফিউজী ষ্ট্যাটাস বা সাবসিডিয়ারী প্রটেকশন, তারা কিছুদিন পর কার্ডটা হাতে পাওয়া মাত্রই ডক্টরেট ডিগ্রীধারী হয়ে যাবেন, কিন্তু এই মুহুর্তে আপনি নিজেই রোগী, তাই ডাক্তারেরও অভাব নেই।
আপনার ঠিকানা যেই এলাকায় ওই এলাকার Mairie তে গিয়ে অথবা Mairie এর ওয়েবসাইট থেকে Assistante Sociale এর ঠিকানা নিয়ে তার রন্দেভ্যুঁ নেন। তিনি হয়তোবা আপনাকে বিভিন্ন ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবে, যেমনঃ ভাতা, বাসা, ঠিকানা, জরিমানা মউকুফ, ভাষা শিক্ষা ইত্যাদি।
যাদের বয়স ২৫ এর নিচে, তাদের জন্য প্রতিটি ville বা শহরে Mission locale আছে, তারাও আপনাকে বিভিন্ন ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে, যেমন, ভাষা, ট্রেইনিং, চাকুরী, ভাতা, বাসা, ঠিকানা, জরিমানা মউকুফ ইত্যাদি। Mission locale এর ঠিকানাও Mairie কিংবা তার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
Pôle emploi বিভিন্ন চাকুরী এবং ট্রেইনিং এর ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে। Pôle emploi তে বিভিন্ন ফাইল আছে, যেখানে চাকুরী, পেশাদার ট্রেইনিং এমনকি ভাষা কোর্সের বিজ্ঞপ্তি আছে। Pôle emploi এর ওয়েবসাইটেও এসব বিজ্ঞপ্তি আছে। এগুলি নিজে খুজে আবেদন করতে পারেন।
CAF এ Prime d’activité কিংবা RSA এর জন্য আবেদন করবেন। Prime d’activité এর জন্য আবেদন সরাসরি অনলাইনে করতে হবে।
নিচের নির্দেশিকার কোন কোন সামাজিক সংগঠন (৪৫ ও ৪৬ পৃষ্ঠা) রিফিউজী ষ্ট্যাটাস বা সাবসিডিয়ারী প্রটেকশন যারা পেয়েছে তাদেরকে সাহায্য করে থাকে। উক্ত নির্দেশিকাটি ডাউনলোড করার জন্য প্রথমে নিচের লিন্কে ক্লীক করুনঃ http://accueil-etrangers.gouv.fr/…/l-examen-de-votre-demand… অতপর নিচের ডান দিকে Bengali (বাংলা) অথবা Anglais (ইংরেজী) ক্লীক করুন।
অনেকে আপনাকে বলতে পারে যে সংস্থার ঠিকানা দিয়ে কার্ড উঠানো যায় না। কথাটা ঠিক এবং বেঠিক দুটোই। আপনার বর্তমান সংস্হাটি শুধুমাত্র আশ্রয় আবেদনকারীদের জন্য, আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্য নয়, এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সংস্হার ঠিকানা আপনাকে সাধারণত আশ্রয় পাবার পর ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। কিন্তু আশ্রয়প্রাপ্ত বা কাগজধারীদের জন্য আলাদা সংস্হা আছে, যাদের ঠিকানা দিয়ে আপনি কার্ড তুলতে পারবেন। কিছু সংস্হা আপনাকে ডমিসিল সহ বাসাও দেয় সাময়িক (৮ থেকে ১০ মাস, নবায়ন এবং স্হানান্তরযোগ্য) চাহিদা মেটানোর জন্য। কিছু সংস্হা মাগনা বা পয়সার বিনিময়ে ডমিসিল দেয়, যেমনঃ

Shuchipotro:Europe is not a bed of roses-Guidelines for Living and Working in France:Syed Abul Hasan

 

বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল অথবা হলিউড এর সিনেমা দেখে কিশোর-কিশোরী কিংবা যুবক-যুবতীরা ইউরোপ-আমেরিকা তে গিয়ে ইউরোপিয়ান অথবা আমেরিকানদের মতই জীবনযাপন করার রঙিন স্বপ্ন দেখে । অনেকে মনে করে ইউরোপ-আমেরিকা তে টাকা উড়ে বেড়ায়। কেউ ভাবে এই সমস্ত অন্চলে ভাত খাইতে হয় না, অটোমেটিক পেটে ঢুকে যায়।
এই ভাবার থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্হ হয় ছাত্ররা, বিদেশে আসার পোকা একবার মাথায় ঢুকলে পড়াশুনা গোল্লায় যায়, ইউরোপে ছাত্র হিসেবে এলেও একমাত্র উন্নতমানের চোর বাবার সন্তানরা ছাড়া, অন্যদের না হয় পড়াশুনা, না হয় ইউরোপে থাকার কোন বৈধ ব্যবস্হা। হতাশায় ভুগে এদের জীবনটা হতাশায়ই ধ্বংস হয়ে যায়। বেঁচে থাকার জন্য তাদের এত কষ্টের এবং অপমানজনক কাজ করতে হয়, যা বাংলাদেশে থেকে কল্পনাও করা যায় না।
ছাত্রদের হয়তো সপ্তাহে ১৫-২০ ঘন্টা কাজের অনুমতি থাকে, যা দিয়ে হাত খরচও চলে না। আর যারা অবৈধ তাদের করতে হয় রাস্তায় হকারী যেমন দেখছেন উপরের ছবি তে, হাতটি একজন বাংলাদেশীর, যিনি বাংলাদেশে থাকলে কখনই এই কাজ করতেন না, তিনি কখনো ভাবেন নি যে তাকে একদিন প্যারিসের কোন মেট্রো বা ভূগর্ভস্থ রেল ষ্টেশন এর প্রবেশপথে দাড়িয়ে, শীত মৌসুমে কখনো শুন্য ডিগ্রীর নিচে তাপমাত্রার মধ্যে, পুলিশের চোখ এড়িয়ে ঠিক এভাবেই ভুট্রা বি্ক্রি করতে হবে। ফ্রান্সে যেকোন অর্থনৈতিক কাজ করার জন্য কমপক্ষে দুইটি অনুমতির প্রয়োজন, প্রথমটি চেম্বার অফ কমার্স এর এবং দ্বিতীয়টি ব্যবসার স্হানের, যার কোনটিই এই ভাইয়ের নেই, তাই যেকোন সময় পুলিশ এসে তার পুরু ব্যবসা বাজেয়াপ্ত করতে পারে, এবং ভাগ্য খারাপ থাকলে তাকে হাতকড়া পড়িয়ে থানা পর্যন্ত নিয়ে কয়েক ঘন্টা হয়রানি করতে পারে অথবা তিন ধাপে ৫ + ২০ + ২০ = ৪৫ দিন পর্যন্ত জেল দিতে পারে, এবং এই সময়ের মধ্যে চলবে দেশে পাঠানোর প্রক্রীয়ার জন্য দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ।
কাজ বলতে রেষ্টুরেন্টে, কাজ আর যাতায়াত মিলে সকাল ৯ টা থেকে রাত্র ১ টা, মাঝখানে ৩ ঘন্টার বিরতি থাকলেও ২ ঘন্টা চলে যায় যাতায়াতে, যাকে বিরতি না বলে হয়রানি বলাই ভাল, কারো সপ্তাহে ১ দিন ছুটি থাকলেও, কারো ৭ দিনই কাজ করতে হয়, এবং এই হাড়ভাঙা পরিশ্রমের কাজ করার জন্যেও প্রয়োজন কাজের অনুমতি সহ একটি বৈধ কাগজ।
যে সমস্ত বাংলাদেশী ভাইবোনেরা বাংলাদেশ অথবা এশিয়ার অন্য কোন দেশ থেকে ইউরোপে আসতে চান, তাদের বলছি, ইউরোপিয়ানরাও রক্তমাংসে গড়া মানুষই, তাদেরও বেঁচে থাকার জন্য কাজ করতে হয়, কষ্ট করে রান্না করে খাইতে হয় এবং টয়লেটও করতে হয় । অনেকেই ভাবেন বহির্বিশ্বে সবাই ইংরেজী ভাষায় কথা বলে, এটাও একদম ভুল ধারণা। ফরাসী আফ্রিকার অধিকাংশ দেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেরই দাপ্তরিক ভাষা, তেমনি স্প্যানিশ ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশের দাপ্তরিক ভাষা, ব্রাজীল সহ পৃথিবীর অনেক দেশেরই দাপ্তরিক ভাষা হলো পর্তূগীজ, এরকম আরও কিছু আন্তর্জাতিক ভাষা রয়েছে। তাই কষ্ট করে ৩০ দিনে ইংরেজী শিক্ষার বই মুখস্হ করে আপনি গোটা পৃথিবীতে কথা বলতে পারবেন, এটা একদম ভূল ধারণা। তবে ইউরোপের বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া্ন দেশগুলিতে ইংরেজী স্বীকৃত দ্বিতীয় ভাষা হলেও, কর্মক্ষেত্রে ওই দেশের জাতীয় ভাষা না জানলে আপনি দাপ্তরিক চাকুরী পাবেন না।
বাংলাদেশ থেকে যারা ইউরোপে আসেন, তাদের জীবন আরও অনেক বেশি কঠিন, কারণ যুক্তরাজ্যের ৩ টি দেশ ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড ছাড়া আপনি ইউরোপের অন্য যেই দেশেই যান না কেন, ডক্টরেট ডিগ্রীধারী হলেও আপনি গন্ডমুর্খ, কারণ ইউরোপের প্রতিটি দেশেরই আলাদা নিজস্ব ভাষা আছে, যেমন ফরাসী, স্প্যানিশ, পর্তুগীজ, জার্মান, সুইডিশ, ইতালীয়ান ইত্যাদি এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই এদের জাতীয় ভাষা জানতে হবে, আর আপনি যদি তাদের ভাষায় কথাই না বলতে পারেন, তাহলে তো আপনি শুধু মুর্খই না, বোবাও বটে । তাই আপনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী হলেও আপনাকে বাধ্য হয়েই দৈহিক পরিশ্রমের কাজই করতে হবে, বিশেষ করে উপরোল্লিখিত তিনটি ইংরেজি ভাষাভাষী দেশ ছাড়া অন্য দেশগুলিতে । এমনকি ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলিতেও আপনি যে কাজ করবেন তা লজ্জায় আপনার হবু শ্বশুরবাড়ীতে কোনভাবেই বলতে পারবেন না, এবং আপনার হবু শ্বাশুরীর কন্যা সন্তানকে বিয়ে করার জন্য তখন একটা চাপা মেরে দিবেন সফ্টওয়্যার অথবা কম্পিউটার ইন্জিনীয়ার জাতীয় কিছু বলে, যদিও আপনার এই সমস্ত ইন্জিন এর ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।
“ মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা ”, ‘একুশে’র মতো ইউনেস্কো স্বিকৃত আমাদের সত্যিই গর্ব করার মতো একটি “ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ” থাকা সত্ত্বেও, দুই-একটা ইংরেজী শব্দ বলতে পারলে আমরা বাংলাদেশীরা যেমন নিজেকে অনেক গর্বিত ভাবি, হিন্দী লম্ফঝম্প না দেখলে নাকি আমাদের বাংলা মায়ের শিশুসন্তানরা খায় না বা ঘুমায় না। পক্ষান্তরে, ইউরোপিয়ানরা কিন্তু একেবারেই এর উল্টো, তারা ইংরেজীকে অথবা প্রতিবেশী দেশের ভাষাকে আমাদের মতো ইজ্জত দেয় না, তবে অনেক সীমান্তবর্তী শহরের স্কুলে দুই দেশের ভাষাতেই নাকি সমান তালে সকল বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। ছোট্র একটা উদাহরণ দেই, এক গ্রীস্মে ছুটিতে গেলাম ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড-ইতালীর সীমান্তবর্তী একটি পাহাড়ী জায়গায়। আমরা যেই বাড়িটি ভাড়া নেই সেটি ফ্রান্সের ভিতরে ছিল, তার পাশেই একটি স্কুলের নাম ছিল ইতালীয়ান ভাষায় লেখা। এ জায়গা থেকে আমরা একদিন সুইজারল্যন্ড এবং আরেকদিন ইতালী গিয়ে, ঘুরাফেরা করে একই দিন ফিরে আসি। আল্পস পর্বতমালা ও পশ্চিম ইউ়োরোপের সর্বোচ্চ পর্বত মঁ ব্লঁ (Mont Blanc) বা ‘শুভ্র পর্বত’ দেখার জন্য আমরা আল্পস পর্বতমালার নিচ দিয়ে ১১.৬১ কিলোমিটার লম্বা সুরঙ পথ পাড়ি দিয়ে ইতালী যাই। ইতালীর বড় আকৃতির পিজা এবং কাপের তলানীতে পড়ে থাকা অল্প পরিমান কফির সুনাম ফ্রান্সে আসার পর থেকেই শুনি। তাই পিজা খাওয়ার জন্য একটু ভিতরের দিকেই যাই। পিজা প্রস্তুতকারক বললেন ৩০ মিনিট সময় লাগবে, এই সময়ের ভিতর দেখলাম পাশেই একটা স্কুলের নাম লেখা ফরাসী ও ইতালীয়ান উভয় ভাষাতেই। আমাদের পিজার বাবুর্চীও ভাল ফরাসী জানেন, তাকে স্কুলের নাম ফরাসীতে হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করাতে উনি বললেন যে, যেহেতু এটা সীমান্তবর্তী শহর, তাই সবাইকে বাধ্যতামুলকভাবে একদম শুরু থেকেই সকল বিষয়েই ফরাসী এবং ইতালীয়ান শেখানো হয়, যাতে ভবিষ্যতে তারা দুই দেশেই কাজ করতে পারে। যা বলছিলাম, ইউরোপিয়ানরা সবাই নিজেদের মাতৃভাষা নিয়ে সত্যিকার অর্থেই গর্বিত, আমাদের মত ‘ভেজাল’ গর্বিত না।
এবার আসা যাক উড়ন্ত টাকার কথায়। উদাহরণস্বরুপ ফ্রান্সে উপরোক্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর মাস শেষে হাতে পাওয়া যায় এই দেশের সর্বনিম্ন বেতন ১১৩৬ ইউরো, যা এদেশের একদম নতুন কোন শ্রমিক সপ্তাহে মাত্র ৩৫ ঘন্টা হিসেবে মাসে ১৫১ ঘন্টা কাজ করেই আয় করে। তারপরও অনেক টাকা, ১১৩৬ x ৮৫.৮৪৩২ = ৯৭,৫১৭.৯০, প্রায় এক লাখ ! অনেক টাকা তাই না ?
কিন্তু একটা মানুষের তো খরচও আছে। আপনি যদি একা এক রুমের ঘর নিয়ে থাকেন, আপনার মাসে গুনতে হবে ৬৫০ ইউরো, সেই সাথে গ্যাস + বিদ্যুৎ + পানি + ইন্টারনেট + টেলিফোন আরও ২০০ ইউরো, যাতায়াত ৭০ ইউরো মাসে, খাওয়া দাওয়া কম হলেও ১৫০ ইউরো । এখন দেখুন আপনার আয়-ব্যায়ের হিসাব ৬৫০ + ২০০ + ৭০ + ১৫০ = ১০৭০। বেতন ১১৩৬ – ব্যয় ১০৭০ = ৬৬ ইউরো দিয়ে আপনার হাত খরচ, টেলিফোন কার্ড ইত্যাদির পর দেশে পরিবারের জন্য কিছুই রইলো না। এরপর আপনি যদি ধুমপায়ী হন সেক্ষেত্রে আপনার কম করে গুনতে হবে মাসে ২১০ ইউরো, ২০ টি সিগারেট এর এক প্যাকেট ৭ ইউরো হিসেবে। কে দেবে সিগারেট এর টাকা ? শুনেছি “ সিগারেট এর টাকা নাকি ভুতে যোগায় ”, সেক্ষেত্রে তো আর চিন্তা নাই, ভুতরে আর ভয় পাওয়ার কোন কারণই নেই, বরং ভুত উপকারী জন্তু !
কিন্তু ১১৩৬ ইউরো বেতন দিয়ে আপনি প্যারিস বা আশেপাশের এলাকায় কোন ঘর ভাড়া পাবেন না। কারণ, এই দেশের নিয়ম অনুসারে একটি ঘর ভাড়া নিতে হলে আপনার মাসিক বেতন অবশ্যই ঘর ভাড়ার তিন গুন হতে হবে। অর্থাৎ ৬৫০ ইউরোর ঘর ভাড়া নিতে আপনার বেতন হতে হবে ১৯৫০ ইউরো।
তাই আপনাকে থাকতে হবে কোন পুরাতন বাংলাদেশীর বাসায় মেস করে, যেই বাসার অবস্হা সাধারণত হয় অস্বাস্হ্যকর, ১ জন লোকের বাসযোগ্য এক রুমে ২/৩ তলা খাটে ৬ থেকে ১০ জন সদস্যের বসবাস, রুমমেটের নাক ডাকার শব্দে অথবা পাঁদের শব্দে বা গন্ধে একবার ঘুম ভেঙ্গে গেলে নির্ঘুম রাত কাটানোর ঝুঁকি, যে রুমে শুধু কোনমতে ঘুমানোর জায়গাটাই থাকে, হাটার কোন স্হান নেই, অনেক বাসায় রান্নাঘরও ঘরের ভিতরেই থাকে, এ্যাপার্টেমেন্টে যত রুমই থাকুক না কেন, টয়লেট কিংবা বাথরুম কোথাও একের অধিক নয়, তাই লাইনও লম্বা। অনেক লোক একসাথে থাকার কারণে নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য লেগেই থাকে। এভাবে শয্যা ভাড়া দেয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে ।
তবে শেষোক্ত পদ্ধতিতে থাকলে আপনার আয় হতে পরিবারের জন্য কিছু ইউরো পাঠাতে পারবেন, কারণ এই পদ্ধতিতে ২/৩ তলা খাটের নীচতলা থেকে উপর তলা পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাওয়া একটি শয্যা, যা কোনভাবেই পুষ্পশয্যা নয়, এর ভাড়া সর্বোচ্চ ১৬০ ইউরো এবং মেসে বৈচিত্র্যহীন খাবার খরচও কমে ১০০-১২০ ইউরোর ভিতর থাকে, তবে বেশির ভাগ মেসে প্রতিদিনই প্রায় একই মেন্যু, মুরগি কিংবা বার্মীজ বড়‌ আকৃতির স্বাদহীন রুই মাছ (শাক-সব্জী খেলে নাকি উনাদের ইজ্জত হানি হয়), এরপর যাতায়াত খরচ আর উপরোল্লিখিত বিলগুলির কোনটিতে সামান্য অংশগ্রহন।
ফ্রান্সে আশ্রয় অধিকার আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনীর ফলে বাসস্হান সুবিধা একটু উন্নত হলেও, আয় শুন্যের কোঠায় চলে যাবে। তাই নতুন বাংলাদেশী আশ্রায়প্রার্থীগণ সরকারী বাসস্হানে না উঠে প্যারিসেই মেসে থাকার চিন্তাভাবনা করছেন, সেক্ষেত্রে তিনি কোনরকম সরকারী ভাতা পাবেন না। তবে হ্যাঁ, কোনভাবে যদি ইউরোপে বৈধ হওয়া যায় তাহলে অনেক সুযোগ সুবিধা আছে, যেমনঃ চাকুরী চলে গেলে সরকার ভাতা দেয়, আয় কম থাকলে সরকার ঘর ভাড়ার একাংশ পরিশোধ করে, খাবার টাকা না থাকলে বা বিপদে পড়লে সরকার আর্থিক সাহায্য প্রদান করে ইত্যাদি। তবে এসমস্ত সুবিধা লাভের জন্য অবশ্যই যে দেশের বাসিন্দা উক্ত দেশের বৈধ কার্ডের অধিকারী হতে হবে অথবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর কোন সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। এসমস্ত ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য আমার অন্যান্য পোষ্টগুলি পড়ুন।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসী আইনেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। তবে সব দেশেই প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলি নিম্নরুপঃ
১) কাজ ও বসবাসের অনুমতিঃ ছাত্র কিংবা যারা সরাসরি বাংলাদেশ থেকেই বিভিন্ন স্পন্সরের মাধ্যমে কাজের অনুমতি নিয়ে আসেন তারা প্রথম থেকেই কাজের অনুমতি পেলেও তা খুবই সীমিত। ছাত্ররা সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘন্টা কাজের অনুমতি পায়, যা দিয়ে হাত খরচও চলে না, তাই টিউশন ফি বা থাকা-খাওয়ার খরচ যোগাতে না পেরে কিংবা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে যেতে হয় অন্য দেশে বৈধ হওয়ার আশায়। স্ক্যান্ডিনেভিয়া্ন দেশগুলিতে শুনেছি পড়াশুনা করতে টিউশন ফি লাগে না, কিন্তু এই দেশগুলি ধনী হওয়ায় জীবনযাত্রার খরচ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, উদাহরণস্বরুপ প্যারিসে যে এক রুমের বাসা ৬৫০ ইউরো ভাড়া, তা নরওয়ে বা ডেনমার্কে ১৫০০ থেকে ২০০০ ইউরো; প্যারিসের ৩/৪ কাপ কফির দামে ডেনমার্কে ১ কাপ কফি পাওয়া যায়। অর্থাৎ ফ্রান্সের তুলনায় স্ক্যান্ডিনেভিয়া্ন দেশগুলিতে জীবনযাত্রার খরচ কম করে হলেও ৩/৪ গুন অধিক । অতএব টিউশন ফি লাগেনা বলেই যে আপনি সম্পুর্ন বিনা খরচে পড়াশুনা করতে পারবেন তা ভাববেন না, কারণ আপনি রাস্তায় ঘুমাতে পারবেন না, বাসা লাগবে; ক্ষুধার্ত থাকতে পারবেন না, খেতে হবে; ঠান্ডার দেশে খালি গায়েও থাকতে পারবেন না, অনেক কাপড় পড়তে হবে। আর যারা সরাসরি কাজের অনুমতি নিয়ে আসেন তাদের চুক্তি ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়, তখন পালিয়ে যেতে হয় অন্য দেশে্। অনেকে সাময়িক বসবাসের অনুমতি পেলেও কাজের অনুমতি পান না। অনেকের কাজ এবং বসবাসের অনুমতি পেতে ১২ বছরও লেগে যায় এবং এই লম্বা সময়ের বেশির ভাগই কাটাতে হয় লুকিয়ে অনেকটা চোরের মত। এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য কিছু দেশে সাধারনত রাস্তাঘাটে হকারী করতে হয়, যেখানে প্রত্যেকেরই ব্যবসা করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্হান থাকে এবং একজনের জায়গায় অপর কেউ ব্যবসা করলে বাংলাদেশীদের নিজেদের মধ্যেই কলহে হতাহত, থানা-পুলিশ এমনকি খুন-খারাবী পর্যন্ত হয়।
২) ভাষা ও সংস্কৃতিঃ ভাষার ব্যাপারে উপরে বিস্তারিত বলেছি। ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিও একটি বড় বাধা, যেমনঃ পোষাক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্যান্টিনে হালাল খাবার সরবরাহে সরকারী নিষেধাজ্ঞা, বড় শহর থেকে একটু দুরে গেলে হালাল মাংস পাওয়া যায় না, কোন ধর্মাবলম্বীগন বিশেষ কোন প্রাণীর মাংস খায় না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোন বিকল্পও থাকে না, ধর্মচর্চার জন্য পবিত্র স্হানের দুস্প্রাপ্যতা ইত্যাদি। অন্যদিকে ইউরোপের রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হলো অভিবাসী এবং মুসলমান, যাদেরকে সবসময় চাপের মুখে রাখা হয়। কিছু কিছু দেশে র‍্যাসিষ্ট এবং নব্য র‍্যাসিষ্টরা বিদেশীদের উপর চালায় নারকীয় নির্যাতন। সস্তা মদ পেয়ে ও তা পান করে অনেক সময় বাংলাদেশী ভাইবোনরা মাতাল হয়ে অনেক অসামাজিক কান্ড করে, মারামারি তে লিপ্ত হয় এবং জেলও খাটে।
৩) বাসস্হানঃ একটি বাসযোগ্য বাসস্হান পাওয়া শুধু বিদেশীদের জন্যই নয়, ইউরোপিয়ানদের জন্যেও অনেকটা সোনার হরিণ। এক সাথে মেস করে থাকলে অনেক ছোটখাট বিষয়ে স্বদেশী রুমমেটদের সাথে ঝগড়াঝাটি অনেক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করে খুনোখুনি পর্যন্ত গড়ায়।
অতএব ইউরোপে আসার আগে ইউরোপ এর ব্যাপারে জানুন, বিশেষ করে এখানে বাংলাদেশীরা কিভাবে বেঁচে আছে। হুজুগের বশে বা রঙিন স্বপ্ন দেখে বাবা-মায়ের সর্বশেষ সম্পদ বিক্রি করে ইউরোপে আসবেন না। বাস্তবটা সত্যিই অনেক কঠিন যার সাথে স্বপ্নের কোন মিল নেই। নিচের লিন্কগুলি আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহায়ক হতে পারে।
  1. https://www.youtube.com/watch?v=TUH… সারমর্মঃ ফ্রান্সে বাংলাদশীর কান্না।
  2. http://www.prothom-alo.com/opinion/… সারমর্মঃ ইউরোপ ভ্রমনের পর সাবেক নির্বাচন কমিশনার এর মন্তব্য “কত কষ্ট করে এঁরা অর্থ উপার্জন করছেন, তা না দেখলে বোঝা যায় না। আমাকে অনেকেই জানালেন যে তাঁদের উপার্জিত বহু অর্থ ওই সব দেশের আইনজীবীদের পেছনে খরচ করতে হয়।”
  3. http://afroeuro.org/magazine/?p=981 সারমর্মঃ ইউরোপের জীবন পুষ্পশয্যা নয়। বাবার সমস্ত সম্পদ বিক্রী করে একবার আসলে আর দেশে ফিরে যাওয়ার উপায় থাকে না।
  4. http://edition.cnn.com/2016/01/26/e… সারমর্মঃ ডেনমার্ক এর জাতীয় সংসদ ৮১-২৭ ভোটে তথাকথিত গয়না বিল পাশ করেছে, যার মাধ্যমে সরকার বা পুলিশ কোন শরনার্থীর নিকট ১০,০০০ ডেনিশ ক্রোনার (প্রায় ১,৪৫৩ $ ডলার) এর চেয়ে অধিক মুল্যের সম্পদ (নগদ টাকা + অলংকার + জিনিসপত্র যেমনঃ ঘড়ি, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি) পেলে তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবে এবং এই অর্থ দিয়ে শরনার্থীদের থাকা ও খাওয়ার খরচ যোগানো হবে। শরনার্থীদের ডেনমার্কমুখী না হওয়ার জন্য এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হবে বলে তারা ধারণা করছেন।
  5. http://tribune.com.pk/story/1036020… সারমর্মঃ সুইডেন ৮০,০০০ এবং ফিনল্যান্ড ৩২,০০০ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে বহিস্কার করবে।
  6. http://www.prothom-alo.com/internat… সারমর্মঃ যুক্তরাজ্যে অবৈধদের বাসা ভাড়া নয়।
  7. http://www.liberation.fr/planete/20… সারমর্মঃ বেলজিয়ামের এক প্রভিন্স এর গভর্নর এর আহ্বানঃ “শরনার্থীদেরকে খাবার দিবে না, তাহলে আরও আসবে।”
  8. http://www.lexpress.fr/actualites/1… সারমর্মঃ ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও তুরস্কের মধ্যে বিতর্কিত চুক্তি। অভিবাসীদের ইউরোপ আগমণ ঠেকাতে “অস্থায়ী এবং অসাধারণ” (?) এই চুক্তির মাধ্যমে সিরীয় যুদ্ধ পালানো আশ্রয়প্রার্থীগণ সহ সকল নতুন অভিবাসীগণ যারা রবিবার (২০/০৩/২০১৬) থেকে গ্রিস এর দ্বীপসমুহে আসবে, তাদের সকলকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে।

Bangladesh Entomological Society Celebrated Silver Jubilee on 9 February 2016: Syeda Tasnim Jannat

Bangladesh Entomological Society (BES) celebrated Silver Jubilee on 9 February 2016.The inaugural program of BES was graced by the Hon’ble Minister for Cultural Affairs, Asaduzzaman Noor  MP as the Chief Guest.Eminent entomologist Professor Dr.Monawar Ahmad was guest of honor and Director-General,Bangladesh Agricultural Research Institute Dr. Md. Rafiqul Islam Mondal was present as the Chief Patron of this event.The inaugural session was presided over by the President of BES  and Vice-Chancellor of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Agricultural University,Prof. Dr. Md. Mahbubar Rahman.The programs of the Silver Jubilee was held at Kazi Badruddoza Auditorium of Bangladesh Agricultural Research Institute (BARI) in Gazipur.

The day-long festivities began with a Silver Jubilee Rally of the entomologists at the premises of BARI.After the rally  inaugural session started at Kazi Badruddoza Auditorium with recitation from the Holy Quran by Dr.Md. Delwar Hossain Prodhan.Then Senior Vice-President of the organisation Dr Syed Nurul Alam presented Welcome Address and Paper on 25 Years of Bangladesh Entomological Society.Professor Dr.Monawar Ahmad recollected his role in the development of BES in his address.The Chief Patron Dr.Md.Rafiqul Islam Mondal then presented his address.

Then a number of mementos were presented to the eminent entomologists,Chief Guest and Chief Patron.

Hon’ble Chief Guest,Mr.Asaduzzaman Noor MP presented a very informative and enjoyable address on the  entomological science and its use for national  development.He urged to the society to educate the children about the benefits of entomology in real life.

In the presidential address Professor Dr. Md. Mahbubar Rahman thanked the Cultural Affairs Minister for attending the Silver Jubilee festivities and thus inspiring all entomologists of Bangladesh.He also requested the Minister

to convince the Prime Minister for  considering inclusion of entomology based

industries for the overall development of Bangladesh in the framework of Vision 2021.

The vote of thanks was offered by Dr. Debasish Sarker .

The inaugural session was jointly hosted by Mr.Nirmal Kumar Dutta and Ms Syeda Tasnim Jannat.

The auditorium was fully filled up by the entomologists,scientists,

teachers,extensionists and related professionals  from various universities,

research establishments and agencies. The prominent scientists of BARI who attended the inaugural session were Dr. Bhaggya Rani Banik, Director (Training and Communication), Dr. Md. Jalal Uddin, Director (Research), Mr. Shoeb Hasan, Director (Support Service), Dr. Muhammad Hossen, Director (Wheat Research Centre), Dr. Muhammad Zahangir Hossen, Director (Tuber Crop Research Centre), Dr. Md. Mahabub Uddin Ahmed, Director (Oilseed Research Centre), Dr. Biresh Kumar Goswami, Director (Planning and Evaluation). The spirit of enthusiasm and sharing of knowledge was noted across the audience.A souvenir  and bag were  distributed among the participants.

 

After the inauguration a session on reminiscence entitled “Fire Dekha” was held under the chair of Professor Dr.Md.Mohsin Ali Sardar.In this session Dr.Mohammad Abdul Karim,Dr.Nazira Quraishi Kamal,Dr.Md.Emdadul Haque and Md.Nazrul Islam presented their memoirs.Dr.Syed Md.Zainul Abedin recited a self composed poem entitled,Kittottobider Smritikotha(Entomologist’s Memoir).An open discussion was also held for the overall development of the society.

 

After the two sessions break for Lunch and Prayer was given.

 

A cultural program was organized as the last event of the Silver Jubilee festivities.Singers and dancers from Chayanot and other organizations performed in this event.

Ms Syeda Tasnim Jannat acted as the anchor for this segment.

 

The festivities of the Silver Jubilee of Bangladesh Entomological Society

were very enjoyable.All members and guests participated in the events and

took fresh vow for the development of our nation.The Silver  Jubilee offered a great opportunity to all entomologist and their spouses to meet with each other

and exchange ideas.It was indeed a great day for Bangladesh Entomological

Society.

 

 

 

 

বোবা :Syed Mohd. Saleh Uddin

আমার লেখালেখির অভ্যাস বান্নুর বন্দি শিবিরে শুরু হয়েছিল বলা যায়।অবশ্য তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুলে পড়ার সময় একবার স্কুল ম্যাগাজিনের জন্য একটি গল্প লিখে জমা দিয়েছিলাম।তা ছাপা হয় নাই।অবশ্য স্যার (সম্ভবত জুলহাস স্যার) উৎসাহ মূলক কিছু বলেছিলেন। স্যারদের কথা বলার সময় আমাদের কালে সকলেই যেন বোবা হয়ে যেত।বাড়িতে অবসরে দাদী, নানা আর নানীর কাছে শুনা গল্প থেকে প্লট নিয়ে কিছু গল্প-টল্প লিখতে চেষ্টা করেছিলাম। যাক বন্দি শিবিরের কাহিনীতে ফিরে যাই।

সে সময় আমরা পাঞ্জাবের মিয়াঁওয়ালী জেলার চশমার বন্দি শিবিরে।হতাশায় জর্জরিত আটক বন্দি সেনাদের মাঝে কিছুটা জোশ আনার তাগিদে কর্পোরাল বাকী ভাইয়ের উৎসাহে আমরা কয়জন মিলে লিখে ফেলেছিলাম একটি দেয়াল পত্রিকা। এর নাম দিয়েছিলাম ‘রহস্যের সন্ধানে’।পরে এস এ সি (সম্ভবত) হাসিম ভাইয়ের সাথে মিলে ‘পরশ মণি’ নামের আর একটি দেওয়াল পত্রিকা লিখা হয়েছিল।  আকাশ- মহাকাশের জানা অজানা তথ্য আর ধর্মাচার ছিল এসবের বিষয় বস্ত।সে সময় গভীর রাতে মাথা গুনতির জন্য শিবিরের খেলার মাঠে আমাদের সকলকে সামরিক নিয়মে ‘ফল- ইন’ করিয়ে রাখা হত। শীতের রাতে পরিষ্কার আকাশে থাকত তাঁরার মেলা। আমরা তখন ছিলাম তাঁরাদের বোবা দর্শক। সেনা ‘ফল-ইন’ অবস্থায় কথা বলা নিষেধ।প্রশিক্ষণকালে কত সেনার যে এ কারণে সাজা মিলে তা ইতিহাসের পাতায় খোজা বৃথা। সেনা জীবনে বোবাদের শত্রু থাকেনা।

সেনা উস্তাদের কাছে প্রশিক্ষণের সূচনায়ই শিখেছিলাম  DO OR DIE, NO QUESTION WHY. আমাদের কালে কোহাটের বিমান বাহিনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জাঁদরেল প্রশিক্ষক ছিলেন জি সি আই  কর্পোরাল কামাল। তিনি ছিলেন আমাদের ইকবাল  স্কোয়াড্রনেরই একজন বাঙালি সমর বিদ্যা প্রশিক্ষক। সংগত কারনেই আমরা আনন্দিত ছিলাম।এর কারণ ছিল এমন  একজন আমাদের প্রশিক্ষক যিনি বাংলা ভাষায় কথা বলেন। একদিন তিনি ঘোষণা করে দিলেন,”তাঁর সাথে ইংরেজি ভাষা ছাড়া আর অন্য কোন ভাষায় কথা বলা চলবে না।” নিরবে আমাদের সে কথা মেনে নিতে হল।স্যারের আদেশ অমান্য করার সাধ্য কার! এক্সট্রা ড্রিলে জি সি আই স্যারদের দাপটে প্যারেডের ময়দান বা বিমান চালনা অনুশীলনের রানওয়েতে চলত নানা কসরত।

স্যারের সাথে রামপুরাতে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছিল। রামপুরা কলেজ জীবনে পথে তাঁকে আমার দেখার ইচ্ছা হত।তিনি সেখানেই থাকতেন। জানিনা এখন তিনি কোথায়?স্যার যেখানেই থাকুন না কেন, আপনাকে সেনা স্যালুট। এখন ইংরেজি ভাষায় আমার লেখা লেখি কখনো হতনা, যদি  আপনি তখন আমাদের টাফ টাইম না দিতেন।

১৯৭৩ সালে দেশে এলাম। অনুজ জয়নুল, আর কাসেম কবিতা-টবিতা লিখত। পরবর্তী কালে হবু ডঃ জয়নুল তার গবেষণার সুবাদে একজন লেখক বনে যায়। তাকে গবেষণা পত্র লিখতে হত। গল্প-কবিতা ইত্যাদির চর্চাও সে করতে থাকে। এখন অবসর জীবনে সে একজন পুরাদস্তুর কবি। এখন সে ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় কবিতা লিখাতে পারদর্শী। বাস্তব জীবনের এ  কৃষি কর্মকর্তার একটি কবিতায় লিখা ‘খামার বাড়ি’ হয়ে যায় কৃষি সদর দপ্তরের নাম।সে নাম ছড়িয়ে যায় প্রায় সকল জেলা কৃষি দপ্তরে।

অবসর জীবনে সে একজন যথার্থ কবি।connecttask.com , bihong.net এবং আন্তর্জাতিক ওয়েভ সাইট http://www.writerscafe.org এ প্রকাশিত তার ইংরেজি ভাষার কবিতার জন্য সে ইউরোপ আর আমেরিকার কবিতা প্রেমিকদের নিকট পরিচিত।আমার লেখক হয়ে উঠার পিছনে তার আর আমার সামরিক জীবনের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সাদাত আলীর অবদান অনস্বীকার্য।সুশিক্ষক সাদাত আলীর ক্লাসে আমি ছিলাম একজন নিরব অথচ মনোযোগী শ্রোতা।

পাকিস্তানের বন্দি শিবিরে কেউ একজন আমাকে আরও কিছু পুস্তকসহ ‘The treasure of Oriental literature’পুস্তকটি দিয়েছিলেন। তিনি হয়ত ভেবেছিলেন এ সব বহন করে নেয়া কষ্টকর হবে বা তার আর সেগুলোর প্রয়োজন হবে না। দেশে ফিরার পর পুস্তকটি জয়নুলের হাতে গেল। সে চীন, জাপান, ভারত, ইরান আর আরবের কবিতার জগতে ডুবে গেল।সে সময় থেকে সে আমাকে সেসব অনুবাদে উদ্ভুদ্ধ করে আসছিল।বইটির ছোট কবিতাগুলির আমি ছিলাম নিরব পাঠক তবে সে সময় অনুবাদে সাহসী হতে পারিনি। এখন আমি কবি ডঃ শাহ্‌ আব্দুর রাহিমের অনুবাদ প্রজেক্টে সাহিত্যকর্ম অনুবাদ করছি।এর মাঝে এ পুস্তকের উপর কিছু কাজ করেছি।ডক্টর সাহেবের বাংলায় রচিত কিছু কবিতাও আমার ইংরেজিতে ভাষান্তর করতে হয়েছে।

aviationbangladesh.wordpress.com আর bihong.netসে সব প্রকাশ পেয়েছে।ডঃ জয়নুল এখনো লেখায় উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে।মাঝে মাঝে সাদাত স্যারের সাথে কথা হয়। সে দিনের কথা মনে পড়ে,তখন আমার সৈনিক জীবন।তিনি আমাকে কৌতুক বিষয়ক ইংরেজি ভাষায় রচিত একটি পুস্তক দিয়ে বললেন,” এটিকে অনুবাদ করতে হবে”। পরে অন্য একদিন তিনি পি কে হিত্তি রচিত ‘The History of Arab’গ্রন্থটি আমার হাতে ধরিয়ে দেন আর বলেন, “এটি অনুবাদ করতে হবে”।তিনি আমাকে আগাম ১৪০০ টাকা উৎসাহ বা প্রণোদনা মানি জোর করে দিয়ে দিলেন।বললেন অনুবাদ সমাপনের পর সাকূল্লে ১০,০০০ টাকা পাবেন। নিরবে পুস্তকটি তার হাত থেকে কবুল করে নিলাম।বাংলাদেশ সেনা  শিক্ষা কোরের  একজন সদস্য হিসেবে নিয়মিত সেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দান ছাড়াও আমাকে নিয়ম মাফিক সকল সামরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হত।তাসত্ত্বেও, কষ্ট করে তাঁর দেওয়া প্রথম বইটির অনুবাদ করে ফেলি।পরে হিত্তি রচিত পুস্তকটির আমাকে দেওয়া অংশের অনুবাদও আমি সমাপন করে ফেললাম আমার সেনা জীবন অবসানের পর। এসব কর্ম আমাকে লেখায় সাহসী করেছে।যদিও পরে তিনি কৌতুক ও সে বিশাল  ইতিহাস পুস্তকটির প্রকাশের জন্য প্রকাশক না পাওয়ার কারণে সেসব  আলোর মূখ দেখাতে পারেন নি এবং আমার অবশিষ্ট টাকাও পাইনি তবুও আমার লেখক হওয়ার জন্য এসব ঘটনা বিশেষভাবে মনে রাখার বিষয়।পরে ডঃ  জয়নুলের উৎসাহে তৎকালীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক বোন সাইয়েদা হাফিজার সাথে ‘মধ্য প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ইতিহাস’ নামে একটি বই লিখে ফেলি যা চয়নিকা (বাংলা বাজার, ঢাকা) প্রকাশ করে।অনার্স/মাস্টার্সের পাঠ্য সূচি অনুসারে লিখা এ পুস্তকটির জন্য অবশ্য এখনো কোন সম্মানী পাইনি।চয়নিকার মিজান সাহেবের মতে এখন ছাত্ররা আর মূল পুস্তক পাঠ করেনা, স্যার।

এখন আমি ‘The History of Arab’ নামের ইতিহাস পুস্তকের অনুবাদ প্রকাশক না পাওয়ার কারণ অনুধাবন করতে পারি।সাদাত  স্যার ছিলেন বহু গ্রন্থ প্রণেতা। তাঁর শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে।সকল গ্রন্থের যে তিনি যথাযথ সম্মানী পেয়েছেন এমনও নয়।কষ্টের অনুবাদকৃত বিশাল পুস্তকের প্রকাশের পর অনুবাদকদের টাকা উদ্ধারে তিনি সম্ভবত সন্দিহান ছিলেন, সুতরাং তিনি কোন প্রকাশককে বিশ্বাস করতে পারেন নি।তবে তিনি বলতেন,”লেখকদের বড় মনের মানুষ হতে হয়”। টাকা চাওয়া যাবেনা। লেখকদের যেন বোবা হতে হবে।   তিনি নিঃসন্দেহে বড় মনের মানুষ। যাক,  তিনি চাইতেন তাঁর কোন কোন পুস্তকের যেন সমালোচনা করে প্রতিবেদন লিখি। আমি সকল সময়ই বোবা পাঠক। সমালোচনা লেখা আমার কর্ম নয়।তবে মনে হয় একবার আমি তাঁকে কিছু লিখে দিয়েছিলাম।

সেনা শিক্ষা কোর থেকে অবসর নেওয়ার পর আমার কলেজ শিক্ষকতা জীবন শুরু। রামপুরা এক্রামুন্নেসা ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার পর আমি বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ পাই। অর্থাৎ পরীক্ষক, নিরীক্ষক ইত্যাদি কাজ। মাঝে মাঝে কবি ডঃ শাহ্‌ আব্দুর রাহিমের অনুবাদ প্রজেক্টে অনুবাদ করি। একদিন উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সাদাত আলী স্যারের সাথে দেখা। শুনলাম তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর সেখানে গ্রন্থাগারিক পদে যোগ দিয়েছেন। সুতরাং, মাঝে মাঝে তাঁর অফিসে দেখা হত।সেনা জীবনের স্মৃতি চারণা হত। তিনি তাঁর নতুন লেখা কবিতা শুনাতেন। একবার তিনি তাঁর লেখা খাঁটি ঢাকাইয়া ভাষার একটি কবিতা আমাকে শুনিয়েছিলেন। তিনি আমাকে তাঁর লিখা নতুন পুস্তক দেখতে দিয়েছেন এবং তাঁর লিখা একটি কবিতার বই উপহার দিয়েছিলেন। বহু বছর তিনি সেখানে ছিলেন। সে সময় পর্যন্ত তাঁর সাথে সেখানে দেখা হত, কথা হত। কিন্তু তিনি চাইলেও আমি মন্তব্য করতাম না।বোবা থাকতাম। তিনি এখন উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অবসরে। বিবিধ কাজে আমি এখনো সেখানে যাই। গ্রন্থাগারে যেতে ইচ্ছা করে। আমি জানি সেখানে এখন আর তিনি বসেন না।

ডঃ জয়নুলের সাথে তাঁর বাড়িতে দেখা হলে আমাকে তাঁর কবিতা দেখার জন্য কম্পিউটারের সামনে বসিয়ে দিত। কলেজে কবি নেওয়াজ আর সালেহা সুলতানার লেখা দেখেছি। সর্বত্রই আমি ছিলাম বোবা পাঠক বা দর্শক। মন্তব্য বা সমালোচনা আমি করতে পারতাম না। এখন বলছিঃ তাঁদের মানব প্রেম, জীব প্রেম আর প্রকৃতিকে ভালবাসার লিখাগুলি ভীষণ ভাল লাগত। সাম্প্রদায়িক কোন লিখা, কোন দল বা মানুষের বিরুদ্ধে বিষবাস্প ছড়ানোর মত লিখা আমার ভাল লাগতনা।

এবার আমি স্রেফ আমার রামপুরা এক্রামুন্নেসা ডিগ্রি কলেজ জীবনের কথা বলি। এ সময়ের খ্যাতনামা লেখিকা সালেহা সুলতানা একদিন আমাকে একটি পুস্তক দিয়ে বলেন,” বইটি পড়ে কেমন হয়ছে বলবেন।” অর্থাৎ যে সমালোচনা করা আমার হয় না, তা করা আরকি! আমি অবশ্য তাঁর লিখা আরও দুই একটি বই দেখেছি। তাঁর সকল বই আমার মনে হয় পাঠকদের ভাল লাগবে। যাক বইটি মন দিয়ে পড়লাম। সমাজের গল্প। সমাজের সুযোগ সন্ধানী নোংরা মানুষের গল্পও এতে ঠাই পেয়েছে।একটি সংসারের টানা পোড়নে জর্জরিত এক নারীর সমাজের বিত্তশালী চকচকে গাড়ীর মালিকের লালসার নিকট বোবা সমর্পণের কাহিনী তিনি তাঁর এক গল্পে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলেছেন। আলাদাভাবে তাঁর কোন বইয়ের কথা আপনাদের বললাম না।খ্যাতনামা লেখিকার নাম আপনারা জানেন। বাংলা একাডেমীর মেলায় তাঁর বই ভাল বিক্রি বাট্টা হয় শুনেছি। ইচ্ছা করলে তাঁর পুস্তক সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।অনেক প্রকাশনা থেকে তাঁর বই বের হয় বলে জেনেছি।এবারের মেলায়ও তাঁর কোন নূতন বই পাওয়া যাবে হয়ত!(NOTE: I CAME TO KNOW, HER BOOKS WILL BE AVAILABLE IN STALL NO:367-368 OF AYON PROKASONY AND STALL NO: 291-292 OF SAHITTO KOTHA & STALL NO:381-382 OF GYAN BITORONI. )

বোবাদের গল্পের শেষ নাই। রাতের বেলা যেন অবাস্তব জগতের বোবারদল দলে দলে হানা দেয়। ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি শেষ রাত।এক বিশাল জন মানব স্বল্প ময়দান দিয়ে অজানায় হেঁটে চলেছি। মাঠে বিস্তর পশু পাখী। দূরে দেখলাম এক বিশাল রয়েল বেঙ্গল টাইগার।মাঠের জীবজন্তুদের রাজার হালে অবলোকন করছেন তিনি, কিন্তু সে সব জানুয়ার যেন বেপরোয়া। হঠাৎ বাঘ মামা আমাকে দেখলেন। তার চোখে হিংস্রতা দেখলাম। মনে হল তিনি যেন আমাকে খাবার বানাবেন। ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিকে বাঘ, চিতাদের ফন্দি এটে খাবার ধরতে দেখেছি। ভাবছিলাম মামা আমাকেই ধরার ফন্দি আঁটছেন।

দেখলাম তিনি ময়দানের মাঝখানের সড়কটার মাঝে সটান শয়ন করলেন। সে পথে কে একজন ভ্রাম্যমাণ পদচারী এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে একজন  ভ্রাম্মন মনে হল। তিনি থেমে গেলেন, সম্ভবত তিনি বাঘটিকে দেখলেন।মনে হল তিনি  যেন চলার সাহস হারিয়ে ফেলেছেন। কোথা থেকে যেন বাচ্চা কাচ্চার দল হাজির হল। ভ্রাম্মন মশায়ের পিছনে তারা জোড়ো হল। তখন যেন সন্ধ্যা হয় হয় অবস্থা। ভাবলাম রাতটা এখানেই কাটাতে হবে।বাঘ মামা চলে যাক! সকালেই যাত্রা শুরু করা যাবে।

একটি তাঁবু পেয়ে গেলাম। সেনাবাহিনীর সেনারা অনুশীলনে, অপারেশনে তাঁবুতে শয়ন করে থাকেন। ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে করাচী থেকে রাজকীয় বিমান বাহিনীর ব্রিটানিয়া নামের পরিবহন বিমানে লম্বা ভ্রমণ শেষে ঢাকাস্থ বিমান বাহিনীর টারমাকে অবতরণের পর আমাদের বালু ঘাটের বিমান সেনা মেসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রথমে তাঁবুতে ঠাই হয়েছিল। ১৯৭৭ সালের শীতকালে ৩৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাথে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সেনা অনুশীলনে যোগ দিয়েছিলাম। এক আম্র কাননে গোরস্তানের কিনারে আমাদের তাঁবু খাটানো হয়েছিল। সেনাদের তাঁবু কবরের মত মাটি খুঁড়ে গর্ত বানিয়ে তার উপর ছোট তাঁবু বিছিয়ে দিয়ে বানাতে হয়। সেনা কর্তারা একে বলেন বিবক। এর অর্থ হল পিঁপড়ার বাসা। এ সুন্দর নামের কারণ পিঁপড়ারা মাটির নিচে বাসা বানায়। হাজার হাজার পিঁপড়া এতে অবস্থান করে। শত্রু পিঁপড়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রয়োজন হলে ওরা দলে দলে বাসা থেকে বের হয়ে আসতে থাকে।ঠিক তেমনি সেনারা মহড়া বা আসল যুদ্ধকালে বিবক থেকে বের হতে থাকে। যাক আমি আমার তাঁবু যথা সম্ভব পোক্ত করে খাটিয়ে ফেললাম।

ঘুমন্ত আমি। হঠাৎ মনে হল বাঘ মামা যেন লাফিয়ে উঠে তাঁবুসহ আমার উপর পতিত হলেন। আমি চেঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছি। এমন অভিজ্ঞতা আমার পূর্বেও হয়েছে।কখনো সাপ বা অশরীরী কেউ ধাওয়া করছে আর আমি ছুটছি আর ছুটছি। একদিন আমি একটি গভীর কূপে কেবল পড়ছিলাম আর পড়ছিলাম। সবারই জীবনে এমন অনেক গল্প আছে। রামপুরা কলেজের ডেইজী মেম শিক্ষকদের আড্ডার মধ্যমণি ছিলেন। তিনি মাঝে মাঝেই তাঁর এক খোয়াবের কথা বলতেন। এক বিশাল সবুজ ময়দানে তিনি যেন কেবল হেঁটেই চলেছেন। এ  চলার যেন কোন শেষ নাই।এখন তিনি কানাডা প্রবাসী। জানতে ইচ্ছা করে, সে বরফের দেশে কি তিনি সে সবুজ ময়দানেই হেঁটে বেরান না সেখানের ময়দান বরফ সফেদ।আমারত মনে হয় দিগন্ত বিস্তৃত বরফ রাজ্যের বোবা প্রকৃতিতেই সেখানে বোবার দল বিচরণ করে!

ভয়ের স্বপ্ন দেখার পর গাও গেরামের মানুষদের কেউ কেউ মসজিদের হুজুর বা মন্দিরের পুরুহিতের নিকট যান।তারা তাদের নিকট বোবায় ধরার কথা বয়ান করেন।তাঁরা খাবনামা ঘেঁটে ঘেঁটে খোয়াবের তাবির বলেন। হয়ত তখন তাঁদের অবচেতন মনে তাঁদের বোবারাও উদয় হয়।